লাইট ১৭ অক্টোবর, ২০২৬

গাজীপুরের কোনো পুরোনো কারখানা কিংবা নারায়ণগঞ্জের কোনো গুদামে ঢুকলে কাউকে কিছু বলে দিতে হয় না, সমস্যাটা নিজে থেকেই চোখে পড়ে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখায় যায়, কোথাও আলো ঝলমলে , কোথাও আবার আবছা অন্ধকার। মাথার ওপর দু-একটা একটা লাইট আবার মৃদু শব্দও করে, কোনোটা আবার মিটমিট করেও জ্বলে। কর্মীরা হয়তো চোখ সরু করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু মাস শেষে বিদ্যুৎ বিল শুধু বাড়ছেই।
এলইডি লাইটে গেলে এসব সমস্যার বেশিরভাগই দূর হয়ে যায়, তবে সেটা হবে তখনই, যখন আপনি ঠিক লাইটটা কিনবেন। শোরুমে যে লাইট দেখতে দারুণ লাগে, সেটাই আপনার টিনের চালের নিচের গরম, প্রতিদিনের ভোল্টেজ ওঠানামা আর অনবরত জমতে থাকা আস্তরনের নিচে পরে থাকতে থাকতে বছর না ঘুরতেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই কারখানার জন্য এলইডি লাইট কেনা আর বাসার জন্য একটা বাল্ব কেনা কখনোই এক কথা নয়।
ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলইডি লাইট কেনার এই গাইডে শুধু কাজের কথাগুলোই থাকছে: কারখানায় কোন ধরনের লাইট লাগে, স্পেসিফিকেশনে কোন তথ্যগুলো অবশ্যই দেখবেন, কতগুলো লাইট লাগবে তা কীভাবে হিসাব করবেন, আর বাংলাদেশের কোন পরিস্থিতিগুলো ঠিক করে দেয় একটা লাইট আদৌ টিকবে কি না। পুরোটা পড়া শেষ হলে পারচেজ অর্ডারে সই করার আগে সাপ্লায়ারকে কী কী জিজ্ঞেস করবেন, তা আপনার কাছে একদম পরিষ্কার থাকবে।
বাংলাদেশের অনেক পুরোনো কারখানার শেডে এখনো মেটাল হ্যালাইড ল্যাম্প, ফ্লুরোসেন্ট টিউব কিংবা দুটোই একসঙ্গে চলে। কাজ চলে ঠিকই, কিন্তু এসব লাইট বিদ্যুতের বড় একটা অংশ তাপ হিসেবে নষ্ট করে, আর দিন যত যায়, আলোও তত কমতে থাকে। আধুনিক এলইডি লাইট একই বিদ্যুৎ খরচ করে অনেক বেশি আলো দেয়। এ কারণেই কারখানা আপগ্রেড করার সময় বিদ্যুৎসাশ্রয়ী ইন্ডাস্ট্রিয়াল লাইটিং এখন একটা নিয়মিত বিষয় হয়ে গেছে।
তবে লাভটা শুধু বিদ্যুৎ বিলেই সীমাবদ্ধ নয়:
কারেন্ট গেলেও কোন দেরি নেই: মেটাল হ্যালাইড ল্যাম্প একবার নিভে গেলে ঠান্ডা না হওয়া পর্যন্ত আর জ্বলে না। ফলে লোডশেডিংয়ের পর পুরো আলো ফিরতে ৮ থেকে ১৫ মিনিট লেগে যেতে পারে। এলইডিতে এই ঝামেলা নেই। বিদ্যুৎ ফিরলে বা জেনারেটর চালু হলেই সঙ্গে সঙ্গে জ্বলে ওঠে।
ফ্লোরে গরম কম: এলইডি লাইট নিচের দিকে অনেক কম তাপ ছড়ায়। গরমকালে লম্বা শিফটে কাজ করা কর্মীরা পার্থক্যটা ভালোই টের পান।
রক্ষণাবেক্ষণের ঝামেলা কম: ভালো মানের লাইট হাজার হাজার ঘণ্টা চলে। তাই বারবার মই বা সিজার লিফটে উঠে লাইট বদলানোর কাজও অনেক কমে যায়।
কাজ হয় নিরাপদে, নির্ভুলভাবে: স্থির আলোয় চোখ কম ক্লান্ত হয়। ফলে কর্মীরা পণ্যের খুঁত বা আশপাশের কোন বিপদের আশঙ্কা থাকলে তা সহজেই খেয়াল করতে পারেন।
টাকার হিসাবে আসলে কতটা সাশ্রয় হয়, সেটা এলইডি লাইট আর সাধারণ বাল্বের তুলনা নিয়ে আমাদের এই আলোচনা বিস্তারিতভাবে সংখ্যার মাধ্যমে দেখানো হয়েছে।
স্পেসিফিকেশন মেলানোর আগে ঠিক করে নিন, আপনার কারখানার কোন অংশে কোন ধরনের লাইট লাগবে। বেশিরভাগ কারখানাতেই শেষ পর্যন্ত এক ধরনের নয়, দুই-তিন ধরনের লাইট লাগে।
সিলিং যদি ৬ মিটার বা তার বেশি উঁচু হয়, তাহলে হাই বে এলইডি লাইটই মূল ভরসা। গোল, ইউএফও আকৃতির এই লাইট দেখতে ছোট হয়েও আলো দেয় প্রচুর। এর ওপরে বড় একটা হিট সিঙ্ক থাকে, যেটা তাপ বের করে দিয়ে লাইটটিকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। খোলামেলা প্রোডাকশন ফ্লোর, ওয়ার্কশপ আর স্টিল স্ট্রাকচারের শেডে তাই এই লাইটই সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।
লিনিয়ার হাই বে লাইটের বডি লম্বা ও চারকোনা, আর আলো ছড়ায় পুরো দৈর্ঘ্য বরাবর। উঁচু র্যাক থাকা গুদামে এগুলো খুব কাজের, কারণ দুই র্যাকের মাঝের পথ ধরে সারি করে লাগানো যায়। সুইং লাইনের ওপরেও এগুলো ভালো মানায়, কারণ সেখানে মেশিনের লম্বা সারির এক মাথা থেকে আরেক মাথা পর্যন্ত সমান আলো লাগে।
ফ্লাড লাইট মূলত বেশ চওড়া আর জোরালো আলো দেয়, আর এটা মূলত বাইরে ব্যবহারের জন্যই বানানো। কারখানার খোলা জায়গা, লোডিং বে, বাউন্ডারি ওয়াল আর পার্কিংয়ে সাধারণত ফ্লাড লাইট লাগানো হয়, এমনকি অনেক সময় উঁচু খোলা শেডের ভেতরেও। কোন কোন জায়গায় ফ্লাড লাইট সবচেয়ে ভালো কাজ দেয়, তা নিয়ে এলইডি ফ্লাড লাইটের প্রচলিত ও ব্যতিক্রমী ব্যবহার লেখায় আমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছি।
অফিস, কোয়ালিটি কন্ট্রোল রুম, ক্যান্টিন বা করিডোরের মতো যেসব জায়গায় সিলিং ৪ মিটারের কম, সেখানে স্লিম ব্যাটেন বা প্যানেল লাইটই ভালো। চোখে লাগার মতো কড়া আলো ছাড়াই এগুলো আরামদায়ক আলো দেয়। এসব জায়গার জন্য ঠিক প্যানেল লাইটটি কীভাবে বাছবেন, তা এলইডি প্যানেল লাইট গাইডে সহজভাবে বোঝানো আছে।
পেইন্ট বুথ, কেমিক্যাল স্টোর কিংবা ওষুধ কারখানার কিছু অংশে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশের জন্য কিছু বিশেষ ধরণের সার্টিফায়েড লাইট লাগতে পারে। সাধারণ হাই বে লাইট সেখানে নিরাপদ নয়। তাই এসব জায়গার লাইটিংয়ের ব্যাপারে অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের পরামর্শ নিন।
ব্রোশার দেখে যতটা বোঝা যায়, ডেটাশিট দেখলে বোঝা যায় তার চেয়ে অনেক বেশি। নিচের সংখ্যাগুলো দেখেই বোঝা যায় কোনটা সত্যিকারের ভালো ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলইডি লাইট, আর কোনটা দেখতে একই রকম সস্তা নকল।
ওয়াট দেখে বোঝা যায় লাইটটা কতটা বিদ্যুৎ খরচ করবে, কিন্তু কতটা আলো দেবে তা বোঝা যায় না। তাই প্রথমে মোট লুমেন দেখুন, তারপর সেটাকে ওয়াট দিয়ে ভাগ করুন। যা পাবেন, সেটাই এফিকেসি, মানে প্রতি ওয়াটে কত লুমেন আলো (lm/W)। ভালো ইন্ডাস্ট্রিয়াল লাইটে এটা সাধারণত ৯০ থেকে ১৫০ lm/W হয়। সংখ্যাটা যত বেশি, একই আলোর জন্য বিদ্যুৎ খরচ তত কম।
লাইট যত উঁচুতে লাগাবেন, তত বেশি লুমেন লাগবে, আর বিম তত সরু হতে হবে। নিচের টেবিলটা চূড়ান্ত ডিজাইন নয়, শুরু করার জন্য একটা ধারণা মাত্র।
লাইট লাগানোর উচ্চতা | প্রতি লাইটে সাধারণত যত আলো লাগে | উপযুক্ত বিম অ্যাঙ্গেল |
৪ থেকে ৬ মিটার | ১০,০০০ থেকে ১৫,০০০ লুমেন | ৯০° থেকে ১২০° |
৬ থেকে ৯ মিটার | ১৫,০০০ থেকে ২৫,০০০ লুমেন | ৯০° (র্যাকের ওপরে ৬০°) |
৯ থেকে ১২ মিটার | ২৫,০০০ থেকে ৩৫,০০০ লুমেন | ৬০° থেকে ৯০° |
১২ মিটারের বেশি | ৩৫,০০০ লুমেন বা তার বেশি | ৬০° বা তার চেয়েও সরু |
বেশিরভাগ প্রোডাকশন ফ্লোরে ৪০০০K থেকে ৫০০০K আলো ভালো কাজ করে। এই স্বাভাবিক থেকে হালকা ঠান্ডা সাদা আলো কাজের সময় মানুষকে সতেজ রাখে। বাংলাদেশে অনেকেই ৬৫০০K ডেলাইট, মানে ধবধবে সাদা আলো পছন্দ করেন, যা খোলা জায়গা, গুদাম আর নিরাপত্তা লাইটের জন্য বেশ মানানসই। সাধারণ কাজের জন্য কালার রেন্ডারিং ইনডেক্স (CRI) ৮০ হলেই চলে। তবে গার্মেন্টস, ডাইং বা প্রিন্টিং ইউনিটে কাপড়ের শেড মেলাতে হলে CRI ৯০ বা তার বেশি লাগবে।
IP রেটিং দেখে বোঝা যায় লাইটটা ধুলা আর পানি কতটা আটকাতে পারে। ধুলাবালি বা স্যাঁতসেঁতে প্রোডাকশন এলাকায় অন্তত IP65 থাকা উচিত। আর বাইরের জায়গা বা যেখানে পানি দিয়ে ধোয়ামোছা হয়, সেখানে IP66 বা IP67 বেশি ভালো। যেখানে ফর্কলিফট বা ক্রেন চলে, সেখানে ধাক্কা সহ্য করার ক্ষমতা বোঝাতে IK08 বা তার বেশি রেটিংও দেখে নিন।
এলইডি লাইটে সবার আগে সাধারণত ড্রাইভারই নষ্ট হয়। তাই এমন ড্রাইভার বেছে নিন যেটা আইসোলেটেড, যাতে ওপেন ও শর্ট সার্কিট প্রোটেকশন আছে, ইনপুট রেঞ্জ চওড়া (যেমন ১০০ থেকে ২৬৫ ভোল্ট এসি), সার্জ প্রোটেকশন অন্তত ৪ কেভি, আর পাওয়ার ফ্যাক্টর ০.৯ এর বেশি। লাইট মিটমিট করার পেছনেও অনেক সময় ড্রাইভারের সমস্যাই দায়ী থাকে, যা মিটমিট করা এলইডি লাইট ঠিক করার উপায় নিয়ে লেখায় বিস্তারিত বলা আছে।
কারখানায় মিটমিট করতে থাকা লাইট শুধু বিরক্তির ব্যাপার নয়। এতে চলমান মেশিনকে ধীরে চলছে বলে মনে হয়, এমনকি থেমে আছে বলেও মনে হতে পারে। একে বলে স্ট্রোবোস্কোপিক ইফেক্ট। তাই যেখানে লেদ মেশিন, কাটার বা ফ্যান চলে, সেখানে লো-ফ্লিকার ড্রাইভারওয়ালা লাইট চেয়ে নিন।
এলইডির আয়ু সবচেয়ে বেশি কমায় তাপ। ডাই-কাস্ট অ্যালুমিনিয়ামের খোলা ফিনওয়ালা হিট সিঙ্ক চিপ থেকে তাপ দ্রুত সরিয়ে নেয়। লাইটটা কত তাপমাত্রা পর্যন্ত ঠিকঠাক চলবে, মানে এর অপারেটিং টেম্পারেচার কত, সেটাও দেখে নিন। কারণ টিনের চালের নিচের বাতাস বাইরের রাস্তার চেয়ে অনেক বেশি গরম থাকে। ৫০°C পর্যন্ত রেটিং থাকলে হাতে কিছুটা বাড়তি নিরাপত্তা থাকে।
বড় করে লেখা "৫০,০০০ ঘণ্টা" সংখ্যাটা একা তেমন কিছু বোঝায় না। তাই L70 রেটিং দেখুন। এটা বলে দেয়, লাইটটা কত ঘণ্টা পর্যন্ত শুরুর উজ্জ্বলতার অন্তত ৭০% ধরে রাখতে পারবে। এরপর দেখুন ওয়ারেন্টিতে ড্রাইভার ধরা আছে কি না, আর LM-79 ও LM-80 টেস্ট রিপোর্ট চেয়ে নিন। মান যাচাইয়ের আরও কিছু দিক নিয়ে ভালো মানের এলইডি লাইট বাছাইয়ের উপায় লেখায় আলোচনা করা হয়েছে।
কতগুলো লাইট লাগবে, তা নির্ভর করে কোন জায়গায় কতটা আলো দরকার তার ওপর। এ ক্ষেত্রে ইউরোপের EN 12464 লাইটিং স্ট্যান্ডার্ড বহুল ব্যবহৃত একটা মানদণ্ড। সেখানে সুপারিশ করা আলোর মাত্রা মোটামুটি এ রকম:
জায়গা | কতটা আলো দরকার |
বাইরের খোলা জায়গা ও হাঁটার পথ | ২০ থেকে ৫০ লাক্স |
মালামাল মজুতের জায়গা (বাল্ক স্টোরেজ) | ১০০ থেকে ২০০ লাক্স |
প্যাকিং ও ডিসপ্যাচ | ৩০০ লাক্স |
সাধারণ প্রোডাকশন | ৩০০ থেকে ৫০০ লাক্স |
কাটিং, সুইং ও ফিনিশিং | ৭৫০ লাক্স |
কোয়ালিটি কন্ট্রোল ও রং মেলানো | ৭৫০ থেকে ১,০০০ লাক্স |
এই সহজ সূত্র দিয়ে মোটামুটি একটা সংখ্যা বের করে ফেলতে পারবেন:
লাইটের সংখ্যা = (যত লাক্স দরকার × মেঝের আয়তন, বর্গমিটারে) ÷ (প্রতি লাইটের লুমেন × ০.৬৫ × ০.৮)
এখানে ০.৬৫ ধরা হয়েছে দেয়াল, র্যাক আর সিলিংয়ে যে আলোটুকু হারিয়ে যায়, সেটা বাদ দিতে। আর ০.৮ ধরা হয়েছে ধুলা জমা এবং সময়ের সঙ্গে এলইডির আলো ধীরে ধীরে কমে যাওয়ার হিসাব রাখতে।
একটা বাস্তব উদাহরণ দেখা যাক। ধরুন, গাজীপুরে আপনার ১,০০০ বর্গমিটারের একটা গুদাম আছে। সিলিং ৮ মিটার উঁচু, আর আপনি চান ২০০ লাক্স আলো। ২০,০০০ লুমেনের হাই বে লাইট ব্যবহার করলে হিসাবটা হবে এমন:
(২০০ × ১,০০০) ÷ (২০,০০০ × ০.৬৫ × ০.৮) = ১৯.২
অর্থাৎ ৫ × ৪ গ্রিডে মোট ২০টা লাইট লাগানোর পরিকল্পনা করবেন। একই জায়গা যদি ৭৫০ লাক্সের সুইং ফ্লোর হয়, তাহলে একই লাইট লাগবে প্রায় ৭৩টা।
তবে এটা একটা আনুমানিক হিসাব মাত্র। চূড়ান্ত লেআউটের জন্য সাপ্লায়ারকে ভাল একটি সফটওয়্যারে লাইটিং সিমুলেশন করে দিতে বলুন। এতে পুরো ফ্লোরের কোথায় কত লাক্স আলো পড়বে, তা ম্যাপ আকারে দেখা যায়। কারখানার ভেতরের অফিস, ক্যান্টিন বা শোরুমের জন্য দ্রুত একটা হিসাব পেতে LAXFO-র ফ্রি লুমেন ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারেন।
যে লাইট সহনীয় আবহাওয়ার দেশে দিব্যি চলে, আমাদের দেশে এসে সেটাই হিমশিম খেতে পারে। তাই লাইট বাছাইয়ের সময় নিচের স্থানীয় বিষয়গুলো মাথায় রাখুন।
দেশের অনেক শিল্প এলাকায় ভোল্টেজ হঠাৎ কমে যায়, হঠাৎ বেড়ে যায়, আর বারবার গ্রিড থেকে জেনারেটরে, আবার জেনারেটর থেকে গ্রিডে লাইন বদলাতে হয়। প্রতিবার এই চেঞ্জওভারের সময় লাইটিং সার্কিটে সার্জ ভোল্টেজ (আচমকা বেড়ে যাওয়া ভোল্টেজ) ঢুকে পড়তে পারে। তাই ভাল ইনপুট ভোল্টেজ রেঞ্জ আর ভালো সার্জ প্রোটেকশন এখানে কেবলমাত্র একটি বাড়তি সুবিধা নয়, এটি একেবারে জরুরি। সেই সঙ্গে লাইটিং সার্কিটে সঠিক মাপের ব্রেকারও লাগান। কারখানার সেটআপে MCB আর MCCB কোথায় কোনটা লাগে, তা সার্কিট ব্রেকার কেনার গাইডে ব্যাখ্যা করা আছে।
বর্ষার আগের প্রচণ্ড গরমে মেটালের ছাদ তেতে ওঠে, তারপর টানা কয়েক মাস চলে ভ্যাপসা আর্দ্র আবহাওয়া। তাই IP65 বা তার বেশি রেটিংয়ের সিল করা লাইট বেছে নিন, যার গায়ে মরিচারোধী কোটিং আছে এবং যেটা বেশি তাপমাত্রাতেও চলতে পারে। নদীর পাশে বা উপকূলের কাছাকাছি কারখানা হলে (যেমন চট্টগ্রাম অঞ্চলে) মরিচা প্রতিরোধের দিকে আরও বেশি খেয়াল রাখা দরকার।
স্পিনিং, নিটিং আর গার্মেন্টস কারখানায় সারাক্ষণ সুতার আঁশ উড়ে উড়ে জমতে থাকে। হিট সিঙ্কে এই ধুলা জমলে তাপ বের হতে পারে না, আর লেন্সে জমলে আলো কমে যায়। তাই এমন লাইট নিন, যার হিট সিঙ্কের ফিনগুলো খোলা এবং সহজে মুছে পরিষ্কার করা যায়। পাশাপাশি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের তালিকায় লেন্স পরিষ্কারের কাজটাও রাখুন।
আরএমজি খাতে বায়ার অডিট আর ফায়ার সেফটি পরিদর্শনের সময় এক্সিট রুট আর সিঁড়ি খুব খুঁটিয়ে দেখা হয়। পুরোপুরি বিদ্যুৎ চলে গেলে মূল লাইটগুলো কোনো কাজে আসবে না। তাই জরুরি বের হওয়ার পথগুলোতে ব্যাটারিচালিত ব্যাকআপ লাইটের ব্যবস্থা রাখুন। কী কী বিকল্প আছে, তা বাংলাদেশে ইমার্জেন্সি লাইট নিয়ে আমাদের লেখায় তুলে ধরা হয়েছে।
অভিজ্ঞ ক্রেতারাও অনেক সময় এই ভুলগুলো করে বসেন:
শুধু ওয়াট দেখে কেনাঃ একই ১৫০ ওয়াটের দুটি লাইটের আলোয় কয়েক হাজার লুমেন পর্যন্ত পার্থক্য থাকতে পারে। তাই সবসময় লুমেন আর এফিকেসি মিলিয়ে দেখুন।
সবচেয়ে সস্তা, নামহীন ব্র্যান্ডের লাইট কেনাঃ ঠিকঠাক ডেটাশিট না থাকলে ভেতরে কোন মানের ড্রাইভার বা এলইডি চিপ আছে, তা জানার কোনো উপায় নেই। আর অল্প দিনেই বারবার বদলাতে গিয়ে শুরুতে যে টাকা বাঁচিয়েছিলেন, তা দ্রুতই শেষ হয়ে যায়।
পুরোনো লাইটের জায়গায় হুবহু একটা করে এলইডি বসানোঃ প্রতিটি মেটাল হ্যালাইড ল্যাম্পের জায়গায় একটা করে এলইডি লাগালে প্রায়ই দেখা যায়, কোথাও দরকারের চেয়ে বেশি আলো, আবার কোথাও অন্ধকার। তাই লেআউটটা নতুন করে পরিকল্পনা করুন।
চোখ ধাঁধানো আলোর কথা না ভাবাঃ বেশি আলোর লাইট খুব নিচুতে লাগালে কর্মীদের চোখ ধাঁধিয়ে যেতে পারে। এর জন্য ডিফিউজার, রিফ্লেক্টর বা আরও উপযুক্ত বিম অ্যাঙ্গেলের লাইট ব্যবহার করুন।
সেন্সর বা কন্ট্রোল ব্যবহার না করাঃ যেসব প্যাসেজে লোকজনের যাতায়াত কম, সেখানে মোশন সেন্সর আর স্কাইলাইটের কাছে ডেলাইট সেন্সর লাগালে বিদ্যুৎ খরচ আরও কমে। বিদ্যুৎ বাঁচানোর আরও কিছু উপায় আছে বাংলাদেশের সেরা বিদ্যুৎসাশ্রয়ী এলইডি লাইট নিয়ে আমাদের তালিকায়।
ওয়ারেন্টির শর্ত না পড়াঃ ওয়ারেন্টিতে যদি ড্রাইভার বাদ থাকে বা দেশে কোনো সার্ভিস সাপোর্ট না থাকে, তাহলে লম্বা ওয়ারেন্টিরও তেমন দাম নেই।
সেরা ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলইডি লাইটও তখনই ভালো ফল দেয়, যখন সাপ্লায়ার বিক্রির পরও পাশে থাকে। বড় অর্ডার দেওয়ার আগে এগুলো চেয়ে নিন:
যে মডেলটা কিনছেন, ঠিক সেটারই পূর্ণাঙ্গ ডেটাশিট ও টেস্ট রিপোর্ট
নিজের কারখানায় কয়েক সপ্তাহ চালিয়ে দেখার জন্য একটা স্যাম্পল লাইট
আপনার জায়গার জন্য একটা লাইটিং লেআউট বা সিমুলেশন
পরিষ্কার ওয়ারেন্টি শর্ত, দেশেই সার্ভিস সুবিধা, আর পরে বদলানোর জন্য পর্যাপ্ত স্টক
কারখানার খোলা জায়গা, লোডিং বে, বাউন্ডারি দেয়াল আর উঁচু খোলা শেডের জন্য LAXFO-র এলইডি ফ্লাড লাইটে ওপরে বলা বেশ কয়েকটি সুবিধাই আছে। তিনটি মডেলই ১০০ থেকে ২৬৫ ভোল্ট এসির চওড়া ইনপুট রেঞ্জে চলে। প্রতিটিতে আছে ওপেন ও শর্ট সার্কিট প্রোটেকশনসহ আইসোলেটেড SMPS ড্রাইভার, আর রেটিং IP67। এর পাশাপাশি পাওয়ার ফ্যাক্টর ০.৯০ এর বেশি, বিম অ্যাঙ্গেল ১২০°, আলো ৬৫০০K ডেলাইট, আর ডাই-কাস্ট অ্যালুমিনিয়ামের বডি ০ থেকে ৫০°C তাপমাত্রায় চলার উপযোগী।
মডেল | আলো | সার্জ প্রোটেকশন | দাম |
৯,০০০ লুমেন | ২ কেভি | ৫,৯০০ টাকা |
|
১৩,৫০০ লুমেন | ৪ কেভি | ১০,৫০০ টাকা |
|
১৮,০০০ লুমেন | ৪ কেভি | ১৩,৯০০ টাকা |
দামগুলো এই লেখা তৈরির সময় LAXFO-র ওয়েবসাইটে যা ছিল, সেই অনুযায়ী দেওয়া। পরে দাম বদলাতে পারে।
ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলইডি লাইট কেনা মানে সবচেয়ে উজ্জ্বল বা সবচেয়ে সস্তা লাইট খুঁজে বের করা নয়। আসল কথা হলো প্রতিটি জায়গার জন্য ঠিক ধরনের লাইট বাছাই করা, ডেটাশিট মন দিয়ে পড়া, আর এমন লাইট কেনা যা বাংলাদেশের গরম, আর্দ্রতা, ধুলা আর অস্থির বিদ্যুৎ সামলে টিকে থাকতে পারে।
শুরুটা করুন কোন জায়গায় কতটা আলো লাগবে, সেটা ঠিক করে। তারপর ভালো ড্রাইভার, সঠিক IP রেটিং আর বিশ্বাসযোগ্য L70 তথ্য আছে এমন লাইটের একটা ছোট তালিকা করুন, আর বড় অর্ডারের আগে একটা স্যাম্পল চালিয়ে দেখুন। ঠিকভাবে করতে পারলে এলইডি আপগ্রেডের সুফল প্রতি মাসেই পাবেন: বিদ্যুৎ বিল কম, লাইট বদলানোর ঝামেলা কম, আর কারখানার ফ্লোর হবে আরও নিরাপদ ও উৎপাদনশীল।
কারখানা বা গুদামের লাইটিং আপগ্রেডের কথা ভাবছেন? আপনার জায়গার খুঁটিনাটি নিয়ে আলোচনা করে মানানসই লাইট খুঁজে পেতে LAXFO টিমের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
সব কারখানার জন্য একটাই সেরা মডেল বলে কিছু নেই। সিলিং ৬ মিটারের বেশি উঁচু হলে সাধারণত এলইডি হাই বে লাইটই ঠিক পছন্দ, আর খোলা জায়গা ও লোডিং এলাকার জন্য ফ্লাড লাইট। কেনার সময় দেখে নিন রেটিং IP65 বা তার বেশি কি না, সার্জ প্রোটেকশন অন্তত ৪ কেভি কি না, ইনপুট ভোল্টেজ রেঞ্জ চওড়া কি না, আর পাওয়ার ফ্যাক্টর ০.৯ এর বেশি কি না।
সাধারণ স্টোরেজ এলাকায় মোটামুটি ১০০ থেকে ২০০ লাক্স আলো লাগে, আর প্যাকিং ও ডিসপ্যাচের জায়গায় লাগে প্রায় ৩০০ লাক্স। যত লাক্স দরকার, সেটাকে মেঝের আয়তন দিয়ে গুণ করুন, তারপর প্রতিটি লাইটের কাজে লাগা লুমেন দিয়ে ভাগ করুন। যেমন, ১,০০০ বর্গমিটারের একটা গুদামে ২০০ লাক্স আলো পেতে ২০,০০০ লুমেনের প্রায় ২০টা হাই বে লাইট লাগবে।
হাই বে লাইট বানানো হয় ৬ মিটার বা তার বেশি উঁচু সিলিংয়ের জন্য। এগুলোর আলো বেশি, আর বিম তুলনামূলক বেশি ফোকাসড। লো বে লাইট ৬ মিটারের কম উঁচু সিলিংয়ের জন্য। এগুলোর বিম চওড়া, যাতে কম দূরত্বে আলোটা চারপাশে ভালোভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
ধুলা, তুলার আঁশ বা আর্দ্রতা আছে এমন ইনডোর কারখানার জন্য IP65 হলো ন্যূনতম ভালো মান। আর বাইরের খোলা জায়গা, লোডিং বে বা পানি দিয়ে ধোয়ামোছা হয় এমন জায়গার জন্য IP66 বা IP67 নিন, যাতে ভারী বৃষ্টি বা পানির জোরালো স্প্রেতেও লাইট ঠিক থাকে।
ভালো মানের ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলইডি লাইটের আয়ু সাধারণত ৩০,০০০ থেকে ৫০,০০০ ঘণ্টা, কোনো কোনোটার আরও বেশি। তবে সবচেয়ে কাজের তথ্য হলো L70 রেটিং, যা বলে দেয় লাইটটা কত ঘণ্টা পর্যন্ত শুরুর উজ্জ্বলতার ৭০% ধরে রাখবে। যে কারখানায় দুই শিফটে দিনে প্রায় ১৬ ঘণ্টা কাজ হয়, সেখানে ৫০,০০০ ঘণ্টা মানে মোটামুটি সাড়ে আট বছর।