লাইট ১৮ আগস্ট, ২০২৫
এলইডি লাইট বাজারে এখন শীর্ষ অবস্থান দখল করেছে, এবং এর চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে। গাড়ির হেডলাইট থেকে শুরু করে আপনার বেডরুমের লাইটিং পর্যন্ত, এলইডি লাইট এখন সবচেয়ে মূল্য সাশ্রয়ী, বিদ্যুৎ-সাশ্রয়ী এবং দীর্ঘস্থায়ী একটি অপশন।
বাজারে গেলে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নানান ধরনের এলইডি লাইট চোখে পড়বে। কিন্তু আপনাকে আপনার প্রয়োজনের সঙ্গে সবচাইতে বেশী মানানসই অপশনটা বেছে নিতে হবে। আজকের এই ব্লগে আমরা এমন একটি পদ্ধতি দেখাব, যা আপনাকে পকেটের চাপ না বাড়িয়ে সঠিক এলইডি লাইট বেছে নিতে সাহায্য করবে।
চলুন শুরু করা যাক…
এলইডি (LED) এর পূর্ণরূপ হলো Light Emitting Diode (লাইট এমিটিং ডায়োড)। সহজভাবে বললে, এটি এমন এক ধরনের বিশেষ ডায়োড, যার মধ্যে দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে আলো নির্গত হয়। সাধারণ ফিলামেন্ট বাল্বের মতো এলইডি লাইটে কোনো ফিলামেন্ট নেই, যার কিনা আলো দিতে হলে আলোর সাথে তাপও উৎপন্ন করতে হয়। এলইডি লাইট মূলত সেমিকন্ডাক্টর উপাদান ব্যবহার করে তৈরী করা হয়, যার মধ্যে দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে তেমন কোন তাপ সৃষ্টি না হয়েই আলো উৎপন্ন হয়। মূলত একারণেই এলইডি লাইট অত্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হয়, কিন্তু তাই বলে আলোরও কোন ঘাটতি হয় না।
আগে বহু দশক ধরে ফ্লুরোসেন্ট ও ফিলামেন্ট বাল্ব বাজারে রাজত্ব করেছে। এগুলো খুব সহজেই ভেঙ্গে যেত এবং তাঁদের আলোর পরিমানও তুলনামূলকভাবে কম ছিল। ফ্লুরোসেন্ট ও ফিলামেন্ট বাল্বের যুগের পর এনার্জি-সেভিং লাইট বাজারে আসে এবং বেশ কিছুদিন রাজত্ব করে। বর্তমানে প্রায় সর্বত্রই এলইডি লাইট দেখা যায়, এবং তাঁদের ভাল পারফরম্যান্স ও সাশ্রয়ী মূল্যের কারণে এগুলোর জনপ্রিয়তা ক্রমেই বাড়ছে।
বাজারে আপনি বিভিন্ন রঙের এলইডি লাইট খুঁজে পাবেন। লাল, সবুজ, নীল ইত্যাদি রঙের আলো দেওয়া এলইডি লাইটগুলো প্রধানত ইলেকট্রনিক ডিভাইসের পাওয়ার ইন্ডিকেটর হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বাড়ি, গাড়ি এবং অফিসের জন্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সাদা রঙের এলইডি ব্যবহার করা হয়। যদি উদ্দেশ্য শুধুমাত্র সাজসজ্জা এবং নান্দনিকতা হয়, তবে আরজিবি (RGB) এলইডি লাইটগুলো একটি চমৎকার অপশন।
অন্যদিকে, এমন কিছু এলইডি আছে যেগুলো থেকে কোনো দৃশ্যমান আলোই বের হয় না। এগুলো শুধু ইলেকট্রনিক সিগন্যাল পাঠায়, এবং সেই সিগন্যালের মাধ্যমে দূরের ডিভাইসগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এই এলইডিগুলো প্রধানত রিমোটে ব্যবহৃত হয়, যা আপনাকে দূরের সব ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস (যেমন টিভি, এয়ার কন্ডিশনার, ডিহিউমিডিফায়ার ইত্যাদি) নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ করে দেয়।
যাই হোক, যদি আপনি শুধু আলো দেয়া এলইডি লাইট খুঁজে থাকেন, তাহলে বাজারে এর বেশ অনেকগুলো প্রকার দেখতে পাবেন। এই বিশাল তালিকা থেকে, আমরা এখানে সবচেয়ে জনপ্রিয় কয়েকটি প্রকার উল্লেখ করছি।
নাম শুনেই যেমনটা বোঝা যাচ্ছে, এলইডি টিউব লাইটের আকৃতি সাধারণ টিউব লাইটের মতোই হয়। তবে মূল পার্থক্য হলো, এলইডি টিউব লাইটের ভেতর ফিলামেন্টের বদলে ছোট ছোট অনেকগুলো এলইডি বাতি থাকে। এরপর পুরো জায়গাটাই একটি শক্ত এবং হাই কোয়ালিটি প্লাস্টিকের কভার দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়ে থাকে, যা পুরো ডিভাইসটিকে দূর্ঘটনাবশত পড়ে গেলেও ভাঙার হাত থেকে রক্ষা করে। এগুলো সাধারণত বাড়ি, বেসমেন্ট, অফিস, সুপারমার্কেট ইত্যাদিতে ব্যবহৃত হয়। এমনকি এগুলো ভূগর্ভস্থ এলাকায় ব্যবহারের জন্যও তুলনামূলকভাবে নিরাপদ, যেখানে সাধারণত প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপন্ন হবার আশঙ্কা থাকে যা কিনা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যেহেতু সাধারণ ফিলামেন্ট বাল্ব তাপ উৎপন্ন করে, তাই ভূগর্ভস্থ এলাকায় এগুলি ব্যবহার করার অর্থ হলো তাপের উৎস স্থাপন করা, যা কিনা শেষমেষ একটি বিশাল দূর্ঘটনার কারনও হতে পারে। এই ধরনের জায়গাগুলোকে নিরাপদে আলোকিত করার জন্য এলইডি টিউব লাইট সবচেয়ে উপযুক্ত একটি অপশন হতে পারে।
এলইডি ফ্লাড লাইট মূলত আপনার বাড়ির বাইরের অংশ আলোকিত করতে ব্যবহৃত হয়। সেটি হতে পারে আপনার বাড়ির পেছনের আঙিনা, খেলার মাঠ, পার্কিং লট, কিংবা ড্রাইভওয়ে। অনেকে আবার বেসমেন্ট ও স্টুডিও সেটআপেও এলইডি ফ্লাড লাইট ব্যবহার করেন, যেখানে তীব্র আলো প্রয়োজন। এগুলো সাধারণত বেশ মজবুতভাবে তৈরি করা হয়ে থাকে, যাতে কঠিন আবহাওয়াতেও বেশ স্বতস্ফুর্তভাবেই এগুলো টিকে থাকতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এগুলো ভাল আইপি রেটিংসহই বাজারে আসে, যা কিনা এদের করে তোলে বৃষ্টিপ্রতিরোধক। এমনকি এগুলোর সাথে শর্ট সার্কিট প্রোটেকশন, ওপেন সার্কিট প্রোটেকশন, সার্জ প্রোটেকশনের মতো উন্নত ফিচারও থাকে, যা এদের দীর্ঘায়ু নিশ্চিত করে। সব মিলিয়ে উন্নত সব ফিচার এবং বৈরী আবহাওয়া সামাল দিয়ে টিকে থাকার উপযোগী করে বানানোর কারণে এলইডি ফ্লাড লাইট তুলনামূলকভাবে সাধারণ এলইডি লাইটের তুলনায় বেশি দামী। সবকিছু ঠিক থাকলেও এলইডি ফ্লাড লাইটের একমাত্র অসুবিধা হলো, এগুলো পোকামাকড়কে আকর্ষণ করে!
ইমার্জেন্সি এসি/ডিসি এলইডি লাইটগুলোতে প্রায় সাধারণত “A” শেপের এলইডি লাইটের প্রায় একই সুবিধা দিয়ে থাকে। শুধু মূল পার্থক্য হলো, ইমার্জেন্সি এসি/ডিসি লাইটে একটি ডিসি পাওয়ার সোর্স (ব্যাটারি) থাকে, যা লোডশেডিংয়ের সময়েও আপনার ঘরে নিরবচ্ছিন্ন আলো নিশ্চিত করে। এটি লাগানোর পদ্ধতিও একই রকম। যখন বিদ্যুৎ থাকে, তখন লাইটটি নিজে থেকেই চার্জ হয়। লোডশেডিংয়ের সময়, এটি তার ব্যাটারিকে পাওয়ার সোর্স হিসেবে ব্যবহার করে আপনার ঘরের ভেতরটা আলোকিত করে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এর ব্যাটারি ব্যাকআপ প্রায় ৩ ঘণ্টা পর্যন্ত হয়ে থাকে (তবে ব্র্যান্ড, মডেল এবং ব্যাটারির ক্ষমতার উপর নির্ভর করে ব্যাকআপের সময়ে ভিন্নতা হতে পারে)। এগুলো প্রধানত বাসা-বাড়ি, অফিস এবং অ্যাপার্টমেন্টের জন্য উপযুক্ত। বিশেষ করে যেসব এলাকায় লোডশেডিং একটি নিয়মিত ব্যাপার, সেখানে এগুলো আপনার অনেক কাজে আসবে।
এ-শেপ এলইডি লাইট হলো এলইডি লাইটের একটি ক্লাসিক মডেল, যা ফিলামেন্ট বাল্বের সেই ঐতিহ্যবাহী আদলে তৈরি। এগুলো মূলত সিলিং এলইডি লাইট যা ইন্সটল করা বা লাগানো খুবই সহজ। এসি/ডিসি লাইটের মতো এ-শেপ এলইডি লাইটগুলো লোডশেডিং-এর সময় আলো দেয় না। এগুলো এসি বিদ্যুতে চলে, যার ফলে আপনি আরও বেশি উজ্জ্বল আলো পাবেন। আপনি যদি আপনার বাড়ির ঘরগুলোতে এলইডি লাইট লাগানোর পরিকল্পনা করেন, তবে এগুলোই সবচেয়ে সাশ্রয়ী সমাধান হতে পারে। এছাড়াও আপনি এগুলো সিঁড়িতে, বেসমেন্টে, বাথরুমে, এমনকি আপনার ভাবনায় আসতে পারে এমন প্রায় যেকোনো সাধারণ জায়গায় ব্যবহার করতে পারেন।
স্পট এলইডি লাইট হলো এক বিশেষ ধরনের এলইডি লাইট যা সিলিং বা ছাদে লাগানো হয়। স্পট লাইট মূলত একটি নির্দিষ্ট স্থান ফোকাস করে আলো ফেলতে সক্ষম। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, এগুলো শপিং মল, বিলাসবহুল রেস্তোরা, পোশাকের দোকান ইত্যাদিতে দেখতে পাওয়া যায়। বেশিরভাগ স্পট এলইডি লাইট লাগানোর জন্য ছাদে একটি গোলাকার ছিদ্র করার প্রয়োজন হয়। তবে, এমন কিছু স্পট এলইডি লাইটও রয়েছে যেগুলোর জন্য শুধু ছাদে লাগানো একটি সিলিং রেলের প্রয়োজন হয়। এরপর আপনি এই স্পট এলইডি লাইটগুলো ওই রেলের সাথে যুক্ত করতে পারেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আপনার স্পট লাইটের ফোকাস পয়েন্ট ঠিকঠাক করে নিতে পারেন। এই লাইটগুলোর সাহায্যে আলোর দিকও পরিবর্তন করা যায়। মূলত যখন আপনি দোকানে কোনো পণ্য ভালভাবে প্রদর্শন করতে চান, এই ফিচারটা তখন বেশ কাজে দেয়। অথবা যদি শুধুমাত্র নান্দনিক সৌন্দর্যও বাড়াতে চান, সেক্ষেত্রেও স্পট লাইট বেশ কাজের জিনিস।
আসলে এমন কোন লাইটিং সেটাপ নেই, যা কিনা আপনার সব রুমেই বেশ ভালভাবে ফিট হয়ে যাবে। আপনার রান্নাঘরের জন্য যে লাইটিং সেটাপটা মানানসই, তা আপনার শোবার ঘরের জন্য উপযুক্ত নাও হতে পারে। একইভাবে, আপনার বসার ঘর, পড়ার ঘর, বাচ্চাদের ঘর ইত্যাদির জন্য ভিন্ন ভিন্ন লাইটিং ব্যবস্থা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে, আপনি দুটি মূল বিষয় বিবেচনায় রাখতে পারেন। সেগুলো হলো-
এখন আমরা একটি টেবিল তৈরি করছি, যেখানে দেখানো হয়েছে বিভিন্ন ঘরের জন্য কতটা উজ্জ্বল আলো প্রয়োজন। এই সংখ্যাগুলোর উপর ভিত্তি করে, আপনি সহজেই বিভিন্ন ঘরের জন্য লাইটিং সেটাপ কেমন হওয়া উচিত তার একটা ভাল ধারণা পাবেন।
টেবিলটি বোঝার জন্য, এখানে একটি সহজ হিসাব দেওয়া হলো:
ঘর/জায়গা | সিসিটি (কেলভিন) | টার্গেট fc | সিআরআই (CRI) | নোট |
---|---|---|---|---|
বসার ঘর (সাধারণ আলো) | ২৭০০-৩০০০K | ১০-২০ | ৯০+ | পড়ার জন্য ৩০০০-৩৫০০K রিডিং ল্যাম্প (৩০-৫০ fc) যোগ করুন। |
রান্নাঘর (সাধারণ আলো) | ৩৫০০-৪০০০K | ৩০-৫০ | ৯০+ | কাউন্টারের কাজের জন্য ৫০-১০০ fc; ক্যাবিনেটের নিচে ৩৫০০-৪০০০K। |
বাথরুম (সাধারণ আলো) | ৩০০০-৩৫০০K | ২০-৩০ | ৯০+ | ভ্যানিটির সামনে ৫০-৭৫ fc; ঝরনার কাছে ভেজা স্থানের উপযোগী লাইট ব্যবহার করুন। |
শোবার ঘর (সাধারণ আলো) | ২৭০০K (ডিমিং-এর সাথে উষ্ণ আলো হলে সবচেয়ে ভালো) | ৫-১৫ | ৯০+ | বিছানার পাশের কাজের জন্য ৩০০০K, প্রায় ৩০-৫০ fc। |
হোম অফিস | ৪০০০-৫০০০K | ৩০-৫০ | ৯০-৯৫ | সমান, কম ঝলমলে আলো; ডেস্কের কাজের জন্য ৫০ fc বা বেশি। |
খাবার ঘর | ২৭০০K | ১০-৩০ | ৯০+ | শান্ত একটা পরিবেশ তৈরির জন্য লাইট কমানো বাড়ানোর ব্যবস্থা রাখুন। |
করিডোর/প্রবেশপথ | ৩০০০K | ৫-১০ | ৮০-৯০ | অকুপেন্সি সেন্সর ব্যবহারের কথা ভাবতে পারেন। |
ক্লোজেট/লন্ড্রি/গ্যারেজ | ৪০০০-৫০০০K | ২০-৫০ | ৯০+ | ভালোভাবে দেখার জন্য উজ্জ্বল, নিউট্রাল-কুল আলো। |
বারান্দা/বাইরের বসার জায়গা | ২৭০০-৩০০০K | - | ৮০-৯০ | ভেজা স্থানের উপযোগী; প্রতিবেশীদের কথা মাথায় রেখে ৩০০০K বা তার কম রাখুন। |
নিরাপত্তা/ড্রাইভওয়ে | ৩৫০০-৪০০০K | - | ৮০-৯০ | মোশন সেন্সর; আলোর ঝলকানি কমাতে শিল্ড ব্যবহার করুন। |
আপনি যদি আপনার বাড়ি/অফিসের জন্য আরও ভালো কোনো সমাধান চান, তাহলে আমাদের'লুমেন ক্যালকুলেটর' (Lumen Calculator) টুলটি দেখতে পারেন। এই টুলটি ব্যবহার করে আপনি আপনার বাড়ি/অফিসের সঠিক তথ্য প্রদান করতে পারবেন এবং এই টুল থেকেই আরও ভাল পরামর্শ পাবেন।
বাংলাদেশে এমন অনেক ব্র্যান্ড রয়েছে যারা এখানকার আবহাওয়া, তাপমাত্রা এবং আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনা করে এলইডি লাইট তৈরি করে থাকে। গুণগত মান এবং স্পেসিফিকেশনের উপর নির্ভর করে বাংলাদেশে এলইডি লাইটের দামে ভিন্নতা দেখা যায়। আর এলইডি লাইটের এই তালিকাটিও বেশ দীর্ঘ।
এই দীর্ঘ তালিকা থেকে আমরা ল্যাক্সফো ব্র্যান্ডের এমন কিছু জনপ্রিয় মডেলের কথা উল্লেখ করতে চাই, যা গুণমান ও দীর্ঘস্থায়িত্বের দিক থেকে প্রমাণিত।
এটি ল্যাক্সফো ব্র্যান্ডের একটি এসি/ডিসি লাইট, যা এর গুণগত মাণ ও দীর্ঘস্থায়িত্বের সাথে কোনো আপোস না করেই তৈরি করা হয়েছে। এই এলইডি লাইটটি লোডশেডিং-এর সময়ে আলো দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। এটি একটি ১০ ওয়াটের এলইডি লাইট যা ব্যাটারি সম্পূর্ণ চার্জ থাকা অবস্থায় ১২০০ লুমেন পর্যন্ত আলো দিতে পারে। স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী, ডিসি মোড (ব্যাটারি) চালু থাকলে এই মডেলটি প্রায় ৩ ঘন্টা আলো দিতে পারে।
ল্যাক্সফো-এর ৫ ওয়াটের এ-শেপ এলইডি লাইটটিতে একটি উন্নত এলইডি চিপ ব্যবহার করা হয়েছে, যা এটিকে বাজারের প্রচলিত লাইটগুলোর তুলনায় বেশি আলো দিতে সাহায্য করে। এটিতে ১.৫KV লাইটনিং সার্জ প্রোটেকশনের মতো কিছু সুরক্ষা বৈশিষ্ট্যও রয়েছে, যা এর সর্বাধিক সুরক্ষা ও দীর্ঘস্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। এটি “এডিসন স্ক্রু” এবং “বেয়নেট ক্যাপ” উভয় মডেলেই পাওয়া যায়, ফলে আপনি আপনার হোল্ডারের ধরন অনুযায়ী আপনার পছন্দের মডেলটি বেছে নিতে পারবেন।
ল্যাক্সফো-এর ১০০ ওয়াটের ফ্লাড লাইট মডেলটি বেশ মজবুত গঠনের, যা আপনাকে এটিকে এমন খোলা জায়গায় স্থাপন করার সুযোগ করে দেয় যেখানে খারাপ আবহাওয়া সহ্য করতে পারাটা খুব প্রয়োজন। এটির আইপি৬৭ রেটিং রয়েছে যা একে করে তুলেছে বৃষ্টি-প্রতিরোধী এবং এটি ঝড়ো হাওয়াতেও টিকে থাকতে বেশ ভালভাবেই সক্ষম। এতে ১২০টি এলইডি লাইট রয়েছে যা একসাথে ৯০০০ লুমেন আলো প্রদান করতে পারে। এটিতে একটি আইসি কনস্ট্যান্ট কারেন্ট ড্রাইভারও রয়েছে যা সিস্টেমের ভোল্টেজ এবং কারেন্ট ওঠানামা করার পরিস্থিতিতেও বিশুদ্ধ এসি কারেন্ট নিশ্চিত করে।
যদি আপনার উদ্দেশ্য হয় বাড়ির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা, তখন ল্যাক্সফো-এর ৬ ওয়াটের সারফেস লাইট মডেলটি একটি চমৎকার সমাধান হতে পারে। এটি সিলিং এ স্থাপন করা সহজ এবং এটির আলোও বেশ উষ্ণ। এর ফ্রেমটি এক্সট্রুডেড অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে তৈরি, যা এটিকে একটি মিনিমালিস্টিক এবং প্রিমিয়াম লুক দিয়েছে। যদিও এতে কোনো বিশেষ সুরক্ষা বৈশিষ্ট্য নেই, তবুও আপনার বিনিয়োগ সুরক্ষিত রাখতে আপনি ১২ মাসের অফিশিয়াল ওয়ারেন্টি পাবেন।
আপনার অফিস বা অ্যাপার্টমেন্ট আলোকিত করার জন্য যখন এমন কোনো লাইটের প্রয়োজন যা ঘরের সৌন্দর্য নষ্ট করবে না, তখন ল্যাক্সফো-এর ৪০ ওয়াটের ব্যাটেন টিউব হতে পারে আপনার সেরা পছন্দ। এটি একটি এলইডি টিউব লাইট যা অনেকটা চারকোনা আকৃতির প্লাস্টিকের আবরণে ঢাকা থাকে, ফলে এটি প্রচলিত ফ্লুরোসেন্ট বাল্বের চেয়ে বেশি মজবুত হয়। এই সুরক্ষামূলক আবরণের নিচে রয়েছে ১২০টি এলইডি চিপ, যা সম্মিলিতভাবে সবদিকে সমান আলো নিশ্চিত করে। এই মডেলে ডাবল আইসি ড্রাইভার প্রোটেকশনও রয়েছে, যা এর বর্ধিত সুরক্ষা ও দীর্ঘস্থায়িত্ব নিশ্চিত করে।
বাজারে যেহেতু অসংখ্য বিকল্প রয়েছে, তাই সঠিক এলইডি লাইট বেছে নেওয়াটা কিছুটা কঠিন মনে হতে পারে। তাই, সবসময় এমন স্বনামধন্য ব্র্যান্ড থেকে এলইডি লাইট কেনা উচিত যারা কম দাম দেওয়ার জন্য কোয়ালিটির সাথে আপোস করে না। বাজারের বেশিরভাগ স্বনামধন্য ব্র্যান্ডের মতোই, ল্যাক্সফো সবসময় সেরা মানের পণ্য সুলভ মূল্যে তৈরি করে থাকে, যা আপনাকে বছরের পর বছর ধরে সেবা দিতে সক্ষম। তাই আমাদের পরামর্শ থাকবে, সবচেয়ে সস্তা বিকল্পটির পেছনে না ছোটার। বরং এমন একটি পণ্য কিনুন যা তার সার্ভিস কোয়ালিটির মাধ্যমে আপনাকে দীর্ঘ সময় ধরে সেবা দিতে সক্ষম।
যদি উদ্দেশ্য হয় আপনার বাড়ি আলোকিত করা, তাহলে এলইডি লাইট সবসময় সেরা বিকল্প। এগুলো প্রায় ৭৫% বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে। যদিও এর ক্রয়মূল্য প্রচলিত ফিলামেন্ট বাল্বের তুলনায় বেশি, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এটি বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয়ের মাধ্যমে খরচ পুষিয়ে দেবে।
বাজারে শুধুমাত্র ফ্লাড লাইট (এলইডি) মডেলেই ১৫০ ওয়াট পাওয়া যায়। ১৫০ ওয়াট এলইডি লাইটের দাম প্রায় ১০,০০০ টাকা। তবে দাম নির্ভর করে অনেক বিষয়ে উপর, যেমন সুরক্ষা বৈশিষ্ট্য, এলইডি-এর সংখ্যা, নির্মাণ উপাদান ইত্যাদি। ল্যাক্সফো এর একটি ১৫০ ওয়াট এলইডি লাইট মডেল রয়েছে যার দাম ১০,৫০০ টাকা। আপনি চাইলে আরও সাশ্রয়ী মূল্যের বিকল্পও বাজারে পাবেন।
২০০ ওয়াট এলইডি লাইটের দাম প্রায় ১৪,০০০ টাকা। যেমনটা আগেই বলেছিলাম, বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে দাম পরিবর্তিত হতে পারে। ল্যাক্সফো এর ২০০ ওয়াট এলইডি লাইট মডেলের দাম ১৩,৯০০ টাকা।
না, এলইডি লাইট প্রায় ৭৫% বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে পারে। বিদ্যুৎ খরচ নির্ভর করে নির্দিষ্ট এলইডি লাইটের ওয়াটের ওপর। উদাহরণস্বরূপ, ২০০ ওয়াট এলইডি লাইট একটি ১০ ওয়াট এলইডি বাল্বের তুলনায় স্বাভাবিকভাবেই বেশি বিদ্যুৎ খরচ করবে।
একটি সাধারণ ১০ ওয়াট এলইডি লাইট ২৪ ঘণ্টা চালালে খরচ খুবই কম হয়। ঢাকায় এর খরচ হবে আনুমানিক ১.৮৬ টাকা। এই হিসাবটি বাসা বাড়ির বিদ্যুতের গড় হার প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টায় প্রায় ৭.৭৪২ টাকা ধরে নিয়ে করা হয়েছে। সে হিসেবে একটি ১০ ওয়াট এলইডি বাল্ব পুরো দিনে ০.২৪০ কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ খরচ করে।