ফ্যান ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

ধরা যাক, তপ্ত কোন এক দুপুরের প্রচণ্ড গরম চলছে, ঠিক তখনই বিদ্যুৎ চলে গেল। আপনি একটু স্বস্তির আশায় আপনার প্রিয় রিচার্জেবল ফ্যানটির দিকে হাত বাড়ালেন। কিন্তু বাটন চাপতেই দেখলেন—কিছুই হচ্ছে না। ভীষণ হতাশাজনক, তাই না? আমাদের কমবেশি সবারই এমন অভিজ্ঞতা হয়েছে।
আপনার রিচার্জেবল ফ্যানটি কেবল একটি সাধারণ যন্ত্র নয়; এটি লোডশেডিংয়ের সময় আপনার ভরসা, আপনার এমন এক সঙ্গী যা সহজেই বহনযোগ্য, এবং সত্যি বলতে অসহ্য গরমের দিনে এটি এক পরম স্বস্তির নাম। তবে আসল কথা হলো: অন্য যেকোনো কর্মক্ষম ডিভাইসের মতো এটিকেও সেরা অবস্থায় রাখতে একটু যত্ন ও পরিচর্যার প্রয়োজন।
সুসংবাদটি কী জানেন? রিচার্জেবল ফ্যানের রক্ষণাবেক্ষণ মোটেও রকেট সায়েন্স বা কঠিন কিছু নয়। এর জন্য আপনার কোনো বিশেষ সরঞ্জাম বা কারিগরি দক্ষতার প্রয়োজন নেই। কেবল কয়েকটি সহজ অভ্যাস এবং নিয়মিত যত্নই আপনার ফ্যানটির আয়ু কয়েক বছর বাড়িয়ে দিতে পারে এবং এটিকে নতুনের মতো সচল রাখতে পারে।
এই আলোচনায় আমরা আপনার রিচার্জেবল ফ্যানটিকে সেরা অবস্থায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু নিয়ে আলোচনা করব। দৈনন্দিন যত্নের টিপস থেকে শুরু করে সাধারণ সমস্যার সমাধান—সবই থাকছে এখানে, যাতে আপনি নিজেই ফ্যান রক্ষণাবেক্ষণে দক্ষ হয়ে উঠতে পারেন।
তো চলুন শুরু করা যাক!
রক্ষণাবেক্ষণের টিপসগুলোতে যাওয়ার আগে, চলুন এক পলক দেখে নেই আপনার রিচার্জেবল ফ্যানটি আসলে কীভাবে কাজ করে। বিশ্বাস করুন, ফ্যানের যন্ত্রাংশগুলো সম্পর্কে ধারণা থাকলে এর যত্ন নেওয়া অনেক সহজ হয়ে যায়।
একটি রিচার্জেবল ফ্যানের বেশ কয়েকটি মূল অংশ একসঙ্গে কাজ করে। যেমন: ব্যাটারি (শক্তির উৎস), মোটর (কাজের মূল চালিকাশক্তি), ব্লেড বা পাখা (যা বাতাস দেয়) এবং চার্জিং পোর্ট। কিছু ফ্যানে স্পিড কন্ট্রোল, এলইডি ইন্ডিকেটর এবং অ্যাডজাস্টেবল স্ট্যান্ডও থাকে।
সাধারণ প্লাগ-ইন ফ্যানের তুলনায় রিচার্জেবল মডেলগুলো বহনযোগ্যতা এবং ব্যাকআপ পাওয়ারের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়। এগুলোতে সাধারণত লিথিয়াম-আয়ন বা লেড-অ্যাসিড ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়, যেগুলোর পারফরম্যান্স ধরে রাখতে বিশেষ যত্নের প্রয়োজন। এর মোটর সাধারণত বেশ কমপ্যাক্ট এবং সাশ্রয়ী হয়, যাতে ব্যাটারির আয়ু সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে।
আপনার কাছে হয়তো ছোট ডেস্ক ফ্যান, স্ট্যান্ড ফ্যান অথবা ক্লিপ-অন ভার্সন থাকতে পারে। প্রতিটি ধরণ কিছুটা আলাদা হলেও রক্ষণাবেক্ষণের মূল নিয়মগুলো কিন্তু একই।
এখানে একটি চটজলদি টিপস দিচ্ছি যা আপনাকে পরে অনেক ঝামেলা থেকে বাঁচাবে: আপনার ইউজার ম্যানুয়ালটি একটি নিরাপদ এবং সহজে পাওয়া যায় এমন জায়গায় রাখুন। আমরা জানি, আমাদের মধ্যে অনেকেই এটি ড্রয়ারে ছুঁড়ে ফেলে দিই এবং ভুলে যাই। কিন্তু ওই ছোট পুস্তিকাটিতে আপনার নির্দিষ্ট মডেল সম্পর্কে এমন কিছু তথ্য থাকে যা পরবর্তীতে খুব কাজে আসতে পারে।
একটি দীর্ঘস্থায়ী রিচার্জেবল ফ্যানের গোপন রহস্য কী? নিয়মিত যত্ন। প্রতিদিনের এবং সাপ্তাহিক ছোট ছোট কিছু অভ্যাস ভবিষ্যতে বড় ধরণের সমস্যা রোধ করে। চলুন দেখে নেই সেই সাধারণ নিয়মগুলো যা আপনার ফ্যানটিকে নতুনের মতো সচল রাখবে।
দ্রুত একবার মুছে নিন: ফ্যান ব্যবহারের পর, বিশেষ করে ধুলোবালিময় দিনগুলোতে, একটি নরম ও শুকনো কাপড় দিয়ে এর বাইরের অংশটি মুছে ফেলুন। এটি করতে মাত্র ৩০ সেকেন্ড সময় লাগে, কিন্তু এটি মোটরের ভেতর ধুলোবালি জমা হওয়া রোধ করে।
ফ্যানের শব্দ শুনুন: সিরিয়াসলি বলছি! ফ্যান যখন চলবে, তখন এর শব্দের দিকে খেয়াল রাখুন। কোনো নতুন খড়খড় শব্দ, ঘর্ষণ বা অস্বাভাবিক আওয়াজ হচ্ছে কি? এর মানে আপনার ফ্যান আপনাকে সংকেত দিচ্ছে যে কোথাও কোনো সমস্যা হয়েছে।
সঠিকভাবে রাখুন: দিনের ব্যবহার শেষ হলে ফ্যানটি যেখানে-সেখানে ফেলে রাখবেন না। এটি তুলনামূলক পরিষ্কার ও শুকনো জায়গায় রাখুন। সরাসরি মেঝেতে রাখা এড়িয়ে চলুন, কারণ মেঝেতে থাকলে এটি বেশি ধুলোবালি টানে।
সপ্তাহে মাত্র একবার ১০ মিনিট সময় বের করে এই দ্রুত চেকআপগুলো করে নিন:
পাখা বা ব্লেড পরিষ্কার করুন: আপনার চোখে ধুলো না ধরা পড়লেও, ফ্যানে দ্রুত ধুলোবালি ঠিকই জমে। সামান্য ভেজা কাপড় দিয়ে মুছলে চমৎকার কাজ হয়।
চার্জিং ক্যাবল পরীক্ষা করুন: তারের কোথাও ফেটে গেছে কি না, তার বের হয়ে আছে কি না বা কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না তা দেখুন। নষ্ট ক্যাবল নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এবং এগুলো দ্রুত বদলে ফেলা উচিত।
গ্রিল বা খাঁচা চেক করুন: ফ্যানের সুরক্ষামূলক গ্রিলগুলোতে প্রচুর ধুলোবালি আটকায়। গ্রিলের ফাঁকগুলো পরিষ্কার করতে একটি নরম ব্রাশ ব্যবহার করুন।
ব্যাটারি পরীক্ষা করুন: ফ্যানটি কয়েক মিনিট চালিয়ে দেখুন এটি ঠিকঠাক চার্জ ধরে রাখছে কি না।
আমাদের টিপস: আপনার ফোনে প্রতি শুক্রবার সন্ধ্যায় একটি 'রিমাইন্ডার' সেট করে রাখুন। গাছপালায় জল দেওয়া বা সাপ্তাহিক বাজার করার মতো এটিকেও আপনার ছুটির দিনের রুটিনের অংশ করে নিন। একবার অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেলে, এটি আর বাড়তি কাজ বলে মনে হবে না।
মাসে একবার আপনার ফ্যানটি একটু বাড়তি যত্ন বা 'স্পা ডে' পাওয়ার দাবি রাখে। এই ডীপ ক্লিনিং প্রসেস সবকিছু সচল রাখে এবং সম্ভাব্য সমস্যাগুলো শুরুতেই ধরতে সাহায্য করে।
শুরু করার আগে নিচের জিনিসগুলো গুছিয়ে নিন:
একটি নরম ব্রাশ বা পুরনো পরিষ্কার টুথব্রাশ
মাইক্রোফাইবার (বা সুতি) কাপড় (এগুলো নরম এবং খুব কার্যকর)
পানির সাথে মেশানো হালকা সাবান
কটন বাড (সরু বা চিপা জায়গাগুলোর জন্য)
একটি শুকনো তোয়ালে
ধাপ ১- সবার আগে নিরাপত্তা: আপনার ফ্যানটি চার্জিং থেকে খুলে ফেলুন এবং নিশ্চিত করুন যে এটি সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এ ব্যাপারে কোনোভাবেই অবহেলা করা যাবে না।
ধাপ ২- যতটুকু সম্ভব খুলে নিন: যদি আপনার ফ্যানের সামনের গ্রিল বা খাঁচাটি খোলার ব্যবস্থা থাকে (ইউজার ম্যানুয়াল দেখে নিন), তবে সাবধানে সেটি খুলে ফেলুন। কিছু মডেলে ক্লিপ বা স্ক্রু থাকে। জোর করে কিছু খোলার চেষ্টা করবেন না।
ধাপ ৩- প্রতিটি পাখা আলাদাভাবে পরিষ্কার করুন: সামান্য সাবান মিশ্রিত পানি এবং ভেজা কাপড় ব্যবহার করে প্রতিটি পাখা গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত মুছে নিন। দেখবেন কত দ্রুত জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে।
ধাপ ৪- মোটর হাউজিং পরিষ্কার করুন: মোটরের বাইরের অংশটি আলতো করে মুছে নিন। খেয়াল রাখবেন যেন কোনোভাবেই ভেতরের ছিদ্র দিয়ে পানি না ঢোকে।
ধাপ ৫- খুঁটিনাটি কাজ: এয়ার ভেন্ট (বাতাস চলাচলের ছিদ্র), সরু কোণা এবং বোতামের চারপাশ পরিষ্কার করতে কটন বাডস ব্যবহার করুন। এই জায়গাগুলোতে প্রচুর ধুলোবালি জমে থাকে।
ধাপ ৬- বেস বা নিচের অংশটা ভুলে যাবেন না: ফ্যানের স্ট্যান্ড বা নিচের অংশটি প্রায়ই অবহেলিত থাকে, কিন্তু এটিও পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
ধাপ ৭- সবকিছু ভালোভাবে শুকিয়ে নিন: এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফ্যানটি আবার জোড়া দেওয়ার আগে নিশ্চিত করুন যে প্রতিটি অংশ পুরোপুরি শুকিয়ে গেছে। নিরাপত্তার খাতিরে আমরা সাধারণত সবকিছু ৩০ মিনিট বাতাসে শুকিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিই।
গুরুত্বপূর্ণ: আপনার ফ্যানে সরাসরি পানি বা ক্লিনিং সলিউশন স্প্রে করবেন না। সবসময় প্রথমে কাপড়ে সেটি লাগিয়ে নিন, তারপর মুছুন। এটি তরল পদার্থকে বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশের ভেতরে ঢুকতে বাধা দেয়।
আরও পড়ুন: চার্জার ফ্যান কেন সিলিং ফ্যানের চেয়ে ভালো?
ব্যাটারি হলো আপনার রিচার্জেবল ফ্যানের প্রাণ। এর সঠিক যত্ন নিলে এটি বছরের পর বছর আপনাকে সেবা দেবে। আর অযত্ন করলে, আপনার ধারণার চেয়েও অনেক দ্রুত আপনাকে নতুন ফ্যান বা ব্যাটারি খুঁজতে হবে।
ব্যাটারি পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই ফ্যানটি চার্জ দেওয়ার চেষ্টা করুন। বারবার জিরো পার্সেন্ট বা একদম শেষ না হওয়া পর্যন্ত চালানো ব্যাটারির আয়ু কমিয়ে দিতে পারে। আপনার ফোনের কথা ভাবুন—আপনি নিশ্চয়ই এটি পুরোপুরি বন্ধ হওয়া পর্যন্ত চার্জ দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করেন না, তাই না? এখানেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।
ফ্যানটি পুরোপুরি চার্জ হয়ে গেলে চার্জার খুলে ফেলুন। ওভারচার্জিং সময়ের সাথে সাথে ব্যাটারির কার্যক্ষমতা নষ্ট করে দিতে পারে। আধুনিক বেশিরভাগ ফ্যানে সুরক্ষা সার্কিট থাকে, কিন্তু ঝুঁকি নেওয়ার দরকারই বা কী?
আমরা জানি যে পোর্টের সাথে ফিট হলেই যেকোনো চার্জার ব্যবহার করার ইচ্ছা জাগে, কিন্তু আপনার ফ্যানের ব্যাটারির জন্য নির্দিষ্টভাবে আসল চার্জারটিই তৈরি করা হয়েছে। ভুল ভোল্টেজের চার্জার ব্যবহার করলে ব্যাটারি নষ্ট হতে পারে এমনকি নিরাপত্তার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
ব্যাটারি অতিরিক্ত তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে না। সরাসরি সূর্যের আলোতে বা প্রচণ্ড ঠান্ডা কোনো জায়গায় ফ্যান চার্জে দেবেন না। রুম টেম্পারেচার বা স্বাভাবিক তাপমাত্রাই এর জন্য আদর্শ।
সঠিক যত্নে বেশিরভাগ রিচার্জেবল ফ্যানের ব্যাটারি ২ থেকে ৪ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হয়। যদি দেখেন আপনার ফ্যান আগের চেয়ে কম ব্যাকআপ দিচ্ছে, তবে বুঝবেন ব্যাটারির আয়ু শেষ হয়ে আসছে। এটি স্বাভাবিক।
যদি শীতকালে আমরা ফ্যান তুলে রাখি, তবে তুলে রাখার আগে এটি অন্তত ৫০% চার্জ করে নেওয়া উচিত। ব্যাটারি পুরোপুরি খালি বা একদম ফুল চার্জ অবস্থায় দীর্ঘদিনের জন্য ফেলে রাখবেন না। প্রতি দুই মাস অন্তর একবার চেক করুন এবং প্রয়োজন হলে অল্প চার্জ দিন।
সাধারণ কোন কোন ভুল এড়িয়ে চলবেন? দিনে ২৪ ঘণ্টা ফ্যান প্লাগ-ইন করে রাখা, প্রচণ্ড গরমে চার্জ দেওয়া এবং সস্তা বা নিম্নমানের চার্জার ব্যবহার করা। এগুলো হলো ব্যাটারি নষ্ট হওয়ার প্রধান কারণ।
সর্বোচ্চ যত্নের পরেও কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। পেশাদার কাউকে ডাকার আগে আমরা নিজেরাই কীভাবে সাধারণ সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারি, তা এখানে দেওয়া হলো।
প্রথমেই দেখে নিন ব্যাটারি চার্জ করা আছে কি না। শুনতে খুব সাধারণ মনে হলেও, আমরা অনেকেই মাঝে মাঝে এটা ভুলে যাই। নিশ্চিত করুন যে পাওয়ার বাটনটি ঠিকভাবে প্রেস করা হয়েছে কি না। কোনো সেফটি সুইচ বা লক ফিচার চালু আছে কি না তাও খতিয়ে দেখুন।
এর মানে সাধারণত আপনার ফ্যানের পাখা বা ভেন্টে ধুলো জমেছে। সেগুলো ভালোভাবে পরিষ্কার করুন। এছাড়া বাতাসের প্রবেশপথে (Air intake) কোনো কিছু বাধা সৃষ্টি করছে কি না তাও দেখে নিন।
খড়খড় শব্দের অর্থ হতে পারে কোনো স্ক্রু বা অংশ ঢিলা হয়ে গেছে। দৃশ্যমান সব স্ক্রু শক্ত করে আটকে দিন। ঘর্ষণের মতো শব্দ হলে বুঝতে হবে পাখার ভেতরে কোনো ময়লা আটকে আছে। ফ্যান বন্ধ করে সাবধানে কোনো বাধা আছে কি না তা পরীক্ষা করুন।
আপনার ফ্যানটি যদি পুরোনো হয়, তবে ব্যাটারি পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে। যদি এটি তুলনামূলক নতুন হয়, তবে আপনার চার্জ দেওয়ার অভ্যাসটি যাচাই করুন। আপনি কি নিয়মিত ওভারচার্জ করছেন বা ব্যাটারি একদম শূন্য করে ফেলছেন?
বেস (Base) এবং স্ট্যান্ডের সব স্ক্রু ও সংযোগস্থল পরীক্ষা করুন। ঢিলা হয়ে থাকা অংশগুলো টাইট করে দিন। নিশ্চিত করুন যে আপনি ফ্যানটি একটি সমতল জায়গায় ব্যবহার করছেন।
যদি পোড়া গন্ধ পান, ধোঁয়া দেখেন, তার বেরিয়ে থাকতে দেখেন অথবা ফ্যান অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়—তবে তৎক্ষণাৎ ব্যবহার বন্ধ করুন। কোনো টেকনিশিয়ান দেখান অথবা প্রস্তুতকারক কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করুন।
আরও পড়ুন: রিচার্জেবল ফ্যান ব্যবহারের সুবিধাসমূহ।
নিরাপত্তা হয়তো খুব আকর্ষণীয় কোনো বিষয় নয়, তবে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিছু সাধারণ সতর্কতা আপনাকে এবং আপনার ফ্যান উভয়কেই বড় বিপদ থেকে দূরে রাখবে।
গোসলের সময় বাথরুমে, সুইমিং পুলের কাছে বা যেখানে ভিজে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে এমন কোথাও আপনার রিচার্জেবল ফ্যান ব্যবহার করবেন না। ইলেকট্রনিক জিনিস এবং পানি কখনোই একসাথে নিরাপদ নয়।
ফ্যানটি ছোট শিশু এবং কৌতূহলী পোষা প্রাণীর নাগালের বাইরে রাখুন। ফ্যানের ঘূর্ণায়মান পাখা তাদের ইনজুরির কারণ হতে পারে, এমনকি তাদের চার্জিং কেবল চিবানো বা কামড়ানোর ফলে বিপদ ঘটতে পারে।
ফ্যান চলাকালীন এর এয়ার ভেন্ট বা বাতাস চলাচলের ছিদ্রগুলো ঢেকে রাখবেন না। এতে মোটর অতিরিক্ত গরম হয়ে যায় এবং ফ্যানের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।
নষ্ট হয়ে যাওয়া বা ফেটে যাওয়া চার্জিং কেবল অবিলম্বে বদলে ফেলুন। এগুলো আগুন লাগার ঝুঁকি তৈরি করে এবং আপনাকে বৈদ্যুতিক শকও দিতে পারে।
আপনি যদি দক্ষ না হন, তবে ব্যাটারি কম্পার্টমেন্ট খোলা বা ভেতরের ওয়্যারিং নিয়ে নাড়াচাড়া করবেন না। ভুলভাবে নাড়াচাড়া করলে কিছু ব্যাটারি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
আপনার ফ্যানটি সবসময় সমতল ও স্থিতিশীল জায়গায় রাখুন। পর্দা, কাগজ বা এমন কিছুর কাছে রাখবেন না যা পাখার ভেতরে ঢুকে যেতে পারে।
কড়া রাসায়নিক (Harsh chemicals), ঘর্ষণকারী ক্লিনার (Abrasive cleaners) বা দাহ্য কোনো পদার্থ ব্যবহার করবেন না। হালকা সাবান এবং পানিই আমাদের জন্য সবচেয়ে ভালো।
আপনি আপনার রিচার্জেবল ফ্যানটির পেছনে ভালো কিছু টাকা খরচ করেছেন। চলুন নিশ্চিত করি যেন এটি আপনাকে বছরের পর বছর নির্ভরযোগ্য সেবা দেয়।
এটি অনেক বড় পার্থক্য গড়ে দেয়। যখন গরমকাল শেষ হবে, ফ্যানটি একবার ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিন, ব্যাটারি ৫০% চার্জ দিন এবং একটি ঠান্ডা ও শুকনো জায়গায় রাখুন। ধুলোবালি থেকে বাঁচাতে একটি কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখুন।
বিষয়টি সহজ রাখুন: প্রতিদিন মুছে নেওয়া, সাপ্তাহিক পরিদর্শন এবং মাসিক ডিপ ক্লিন। মনে রাখতে সুবিধা হলে এটি কোথাও লিখে রাখুন।
সবসময় সর্বোচ্চ গতিতে (Highest speed) ফ্যান চালালে এটি দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে। সম্ভব হলে মাঝারি বা কম গতিতে ব্যবহার করুন। এতে আপনার ব্যাটারিও ভালো থাকবে।
ফ্যানটি এমন জায়গায় রাখুন যেখানে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করে এবং বারবার ধাক্কা লাগার ভয় নেই। একটি ভাল স্থান এর আয়ু বাড়িয়ে দিতে পারে
যদি মোটর নষ্ট হয়ে যায় বা বডি মারাত্মকভাবে ফেটে যায়, তবে মেরামতের চেয়ে নতুন কেনাই বেশি সাশ্রয়ী হতে পারে। কিন্তু সমস্যা যদি শুধু ব্যাটারি বা চার্জিং ক্যাবলে হয়, তবে সেগুলো বদলে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
সঠিক যত্নে বেশিরভাগ রিচার্জেবল ফ্যান ৩ থেকে ৫ বছর পর্যন্ত টেকে। কিছু ভালোভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা মডেল আরও বেশি দিন চলতে পারে। আপনার যত্নের ওপরই এর স্থায়িত্ব নির্ভর করে। আপনি যদি মেরামতের বিষয়ে আরও জানতে আগ্রহী হন, তবে রিচার্জেবল ফ্যান কীভাবে মেরামত করবেন সে সম্পর্কে আমাদের বিশেষ আলোচনাটি দেখে নিতে পারেন।
এই তো হয়ে গেল! রিচার্জেবল ফ্যান রক্ষণাবেক্ষণ করা মোটেও জটিল কিছু নয়। এটি কেবল কয়েকটি ভালো অভ্যাস গড়ে তোলা এবং তা মেনে চলার বিষয়। প্রতিদিন দ্রুত পরিষ্কার করে নেয়া, সাপ্তাহিক চেক-আপ এবং মাসিক ডিপ ক্লিন আপনার ফ্যানকে বছরের পর বছর সচল রাখবে।
মনে রাখবেন, লোডশেডিং, তীব্র দাবদাহ এবং যেকোনো গরমে আপনার রিচার্জেবল ফ্যানটিই আপনার পাশে থাকে। তাই একে একটু যত্ন দিন, আর এটি আপনাকে সবসময় শীতল ও আরামদায়ক রাখবে।
ভালো থাকুন, স্বস্তিতে থাকুন!